মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নাম :

 

ডা: জোহরা বেগম কাজীর জীবনী:

 

ডাক্তার  জোহরা কাজী তিনি বাংলাদেশের প্রথম বাংঙ্গালী-মুসলিম মহিলা চিকিৎসক ও বিশ্বের প্রথম মহিলা চিকিৎসক এলিজাবেথ ব্লাকওয়েল  তিনি মাদারীপুর জেলাধীন কালকিনি উপজেলার  গোপালপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছেন।

বিশ শতকের গোড়ার দিকে পশ্চাৎপদ বাঙালি সমাজের প্রতিকূল অবস্থান থেকে নারী জারণের যে উন্মেষ ঘটেছিল অধ্যাপক ডা: জোহরা বেগম কাজী সেই আন্দোলনের একজন অন্যতম পথিকৃৎ।বাংলাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক হিসেবে তিনি এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। নিষ্ঠা, একাগ্রতা আর সেবার মহান ব্রতে দীক্ষিত নারী তাঁর গোটা জীবন আর্তমানবতার সেবায় নিবেদন করেন। মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার গোপালপুর গ্রামে অধ্যাপক ডা: জোহরা বেগম কাজীর পৈতৃক নিবাস। বাবা ডা.কাজী আবদুস সাত্তার ও মা আঞ্জুমান নেছা বেগম।বাবার কর্মস্থল ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজনানগাঁও নামক স্থানে ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর জোহরা বেগম কাজী জন্মগ্রহণ করেন। মানবতাবাদী বাবা ডা: কাজী আবদুস সাত্তার ছিলেন মহাত্ম গান্ধির অনুসারী। মা-বাবার অনুপ্রেরণায় তিনি অবিভক্ত ভারতে পড়াশুনা শুরু করেন এবং 1935 সালে দিল্লির লেডিং হাডিং মেডিক্যাল কলেজ ফর ওমেন থেকে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে চিকিৎসাশাস্ত্রে উত্তীর্ণ হন। সে সময়ের একজন বঙালি নারী হিসেবে তার অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ব্রিটিশরাজ তাকে সম্মানজনক ভাইসরয় পদকে ভূষিত করে। পরবর্তীকালে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রের ওপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

চিকিৎসা সেবায় তিনি প্রথম আত্মনিয়োগ করেন ভারতের মধ্যপ্রদেশে মহাত্মা গান্ধি সেবাশ্রমে। ১৯৪৮ সালে ভারত বিভক্তির পর মাতৃভূমিতে ফিরে এসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেট হাসপাতাল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষক এবং চিকিৎসক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। এই মহান কর্মবীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল তাঁকে "অনারারি কর্নেল" পদে সম্মানিত করে।

প্রফেসর জোহরা বেগম কাজী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠার সুবাদে রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও তাঁর মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিল। বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক মতাদর্শেও একজন অনুসারী হিসেবে তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরোক্ষ সহায়তা প্রদান, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও মুক্তযোদ্ধের সময় ঢাকার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধোদের একজন প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর গভীর শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান , মহাত্মা গান্ধি,পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু, বল্লভ ভাই প্যাটেল, সশীলা নায়ার, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কমরেড মোজাফ্ফর আহমেদ, কাজী নজরুল ইসলাম,শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ উপমহাদেধের বরেণ্য ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং একই আদর্শের ধারায় দেশপ্রেমের অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে চিকিৎসকেদের সংগঠন বিএমএ স্বর্ণ পদক, রোকেয়া পদক ও ২০০ সালে সরকার একুশে পদক (মরনোত্তর) প্রদান করে। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন সংগঠন তাঁকে  সম্মাননা  জানায়। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাকে সবোর্চ্চ পদক তঘমা-ই-পাকিস্তান খেতাবে ভূষিত করে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদানের জন্য এ দেশের মানুষ তাকেঁ চিরদিন স্মরণ রাখবে। তিনি ছিলেন একজন আম্মপ্রচার বিমুখ মানবতাবাদী চিকিৎসাবিজ্ঞানী।

তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য কৃতি চিকিৎসক তৈরি করে গেছেন। এ দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রসূতি ও ধাত্রীবিদ্যা শিক্ষার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা পথিকৃতের । অধ্যাপক ডা: জোহরা বেগম কাজী ঢাকা মেডিকাল কলেজে প্রসূতি ও ধাত্রীবিদ্যা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে সর্বপ্রথম এ দেশের নারীদের চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নের বন্ধ দুয়ার খুলে দেন।এ প্রসূতির ও ধাত্রীবিদ্যার খ্যাতিয়ান চিকিৎসকরা তার কাছেই প্রথম বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। আজ বাংলাদেশের নারীদের চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নে ব্যাপক অংশগ্রহণ এই মহান চিকিৎসাবিজ্ঞানীর অবদান বললে অতুক্তি হবে না । ছাত্রদের মানবতাবাদী চিকিৎসক হিসেবে গঠন করার ক্ষেত্রে একজন সার্থক শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান সতত অনুসরণযোগ্য২০০১ সালের ১১ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও দেশের নাগরিক সমাজ যৌথভবে অধ্যাপক ডা: জোহরা বেগম কাজী তাদের পরিবারের অভিভাবক হিসেবে বিভিন্ন সময়ে  মহাত্মা গান্ধিজির স্বহস্তে খিখিত  ব্যক্তিগত ঐতিহাসিক পত্রগুচ্ছ , ভাইসরয় তঘমা-ই-পাকিস্তান পদক, সনদপত্র প্রভৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্মারকসমূহ তৎকালীন মহাপরিচাল শামসুজ্জামান খানের কাছে কজতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণে ও নতুন প্রজন্মের কাছে প্রদর্শনের জন্য উপহার হিসেবে হস্তান্তর করেন।

২০০৭ সালের ৭ মভেম্বর এই মনবতাবাদী চিকিৎসাবিদ লোকান্তর হন। এই ত্যাগী মানবতাবাদী চিকিৎসক ও সমাজসেবকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর স্মরণে অধ্যাপক ডা: জোহরা বেগম কাজী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রার্থনা ও তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দেশের এই বিশিষ্ট কৃতি সন্তানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার অসামান্য অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

 

ড.কাজী আশরাফ মাহমুদ

মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার খুব বড় মাপের দুইজন কবি জন্মগ্রহণ করেছেন।ওই উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন বর্তমান বাংলার শ্রেষ্ঠতম কবি ও ঔপল্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। আর পাশেরই গ্রাম গোপালপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কবি কাজী আশরাফ মাহমুদ। দু'জনকে নিয়েই আমি গর্ববোধ করি।এই শেষোক্ত জন নিয়ে আমার গর্বের মাত্রাটা একটু বেশি। এজন্য যে, আমি বেশ বগ গলায় বলতে পারি,একজন খুবই উঁচু মানের কবির। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম জানেন না এমন শিক্ষিত বাঙালি বোধ হয় নেই। অন্যদিকে আশরাফ মাহমুদের নাম জানেন, বাঙালিদের মাঝে এমন লোক বর্তমানে সম্ভবত খুজেঁ পাওয়া যাবে না। এর কারণ তিনি কাব্য চর্চা করেছিলেন হিন্দি ভাষায়। আরও সঠিকভাবে বলতে হবে,মৈথিলী ভাষায়। কবি আশরাফ মাহমুদ গোপালপুর গ্রামে ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ কজী আব্দুস সাত্তার ছিলেন সার্জন অব ইন্ডিয়া পদমর্যাদার ডাক্তার। তিনি অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রায়পুর শহরে একটি ব্রিটিশ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। আশরাফ মাহমুদের বয়স দু বছর তখন তিনি মায়ের সঙ্গে পিতার কর্মস্থল মধ্যপ্রদেশে চলে যান। মধ্যপ্রদেশের রায়পুর অঞ্চলের ভাষাকে ঠিক হিন্দি বলা যাবে না। ওখানকার মানুষের মুখের বুলি মৈথিলী,যা কিনা হিন্দি এবং বাংলার মাঝামাঝি । ওই ভাষা হিন্দিএবং উর্দুর চেয়ে অনেক শ্রুতিমধুর। কাজী আশরাফ মাহমুদ দু'বছর বয়সে ওদেশে চলে গিয়েছিলেন। ওখানেই বড় হয়েছিলেন এবং লেখাপড়াও শিখেছিলেন ওখানকার স্কুলে। তাই তারও  মুখের বুলি ছিল মৈথিলী। ওই ভাষাতেই তিনি কাব্যচর্চা করেছেন। তাই তার লেখা কবিতাগুলো অনুবাদ ছাড়া আমরা বুঝতে পারি না। তার কবিতাটি লিখেছেন তার থেকে একটুখানি উদ্ধৃতি দিচ্ছি-"বন্ধু না পুছো মুঝছে মেরে

ইন গীতোঁ কা জনম-বিকাশ,

কি সী দিবস আ লিখ যাওয়েগা

স্বয়ং প্রেম ইনকা ইতিহাস।"

এখানে উল্লেখ্য,রাজা দশরথ-পূত্র শ্রীরামচন্দ্রের স্ত্রী-সীতা ছিলেন মিথিলার রাজকন্যা। মিথিলা রাজ্য ছিল, বর্তমানের মধ্যপ্রদেশে। মিথিলার ভাষা ছিল মৈথিলী। যেমন মগদের ভাষা দিল মাগধী। মৈথিলী এবং মাগধী থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। মৈথিলী হলো বাংলা ভাষারই আদি ও ক্লাসিক্যাল রূপ। আমরা ওই ভাষার আদিরূপকে কিছুটা হলেও ধরে রেখেছি বলে,বাংলা ভাষা এত মধুর ও কবিত্বময়। পিতার পদঙ্ক অনুসরণ করে ডাক্তার হওয়ার জন্য চাচা আশরাফ মাহমুদ কোলকাতার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি কমিউনিস্ট ভাবধারার রাজনীতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র থাকাকালে কলেজ থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন। এরপর তিনি আলীগড় এবং নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে উদ্ভিদ বিজ্ঞানী হন। ওই বিষয়ে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রিও অর্জন করেন। ডাক্তার আব্দুস সাত্তার রায়পুরে মহাত্মা গান্ধী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সেবাগ্রাম আশ্রামে স্বোদামূলক সেবাদান করতেন। একই সঙ্গে করতেন কংগ্রেস দলীয় রাজনীতি। এসব কারণে গান্ধীজীর পরিবার  এবং ডাক্তার সাত্তারের পরিবারের মধ্যে খব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সুবাধে আশরাফ মাহমুদ ও গান্ধী পরিবারের খব আপনজন হয়ে যান। তবে তিনি বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ হন, গান্ধীজীর পুত্র রামদাস গান্ধীর সঙ্গে।১৯৪৩ সালে তিনি মধ্য প্রদেশের রামটেক পাহাড়ে রামদাস গান্ধীর পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন বাস করেছিলেন। ওই পরিবারের সঙ্গে বাস করতে গিয়ে তিনি গৃহকর্তার অল্পবয়সি সুন্দরী মেয়ে সুমিত্রার প্রেমে পড়েন। কবি হবো, প্রেমিক হবো না, এমনটা তো হতে পারে না। তাদেঁর এই পারস্পরিক প্রেমের কথা জানাজানি হলে রামদাস গান্ধী এবং তাঁর স্ত্রী খুশি মনেই তাদেঁরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেন। কিন্তু গান্ধীজী এ বিয়েরে ব্যাপারে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। সুমিত্রার বয়স ছিল  তখন ১৭-১৮ বছর। আশরাফ মাহমুদের বয়স ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। বয়সের এই পার্থ্যক্যের জন্যই গান্ধীজী এ বিয়েতে আপত্তি করেছিলেন। ফলে বিরহী কবি হওয়া ছাড়া আশরাফ মাহমুদের উপায়ন্তর রইল না। আশরাফ মাহমুদের সঙ্গে সুমিত্রা দেবীর বিয়ে না হওয়ায় হিন্দি সাহিত্য একদিকে লাভবান হয়েছিল, আবার অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছিল। সুমিত্রা দেবীর প্রেমের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে কাজী আশরাফ মাহমুদ চিরকুমার থেকে যান এবং কুটজমালা, বিরহী, নিমন্ত্রণ, বিয়োগী, বিয়োগিনী, নিবেদন এমনি বিখ্যাত কয়েকখানা কাব্যগ্রন্থ লিখে গেছেন। কিন্তু অসাধারণ ওসব কবিতায় ক্ষোভ আর হতাশা  প্রকাশ  পেয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু বিরহপূর্ব তাঁর কাব্যে গীতমিয়ভাব এবং গ্রাণরস ছিল অনেক বেশি। বিরহপূর্বকবিতা থেকে উদ্বৃতি-

"ঠুমুক ঠুমুক পস

কুসুম কুঞ্জ মগ

চপল হরিণ আয়ে

হো হো চপল হরিণ আয়ে

মেরে প্রাণ ভুলাওন আয়ে

বিমিক ঝিমিক ঝিম

নর্তন পদ হরি আয়ে!"

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্র দিলীপ কুমার রায় ছিলেন তাঁর সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি গীতিকার ও সুরকার। তিনি আশরাফ মাহমুদের কিছু কবিতা ক্লাসিক্যাল ভজন সঙ্গীত মনে করে তাতে সুরারোপ করে গাইতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে আশরাফ মাহমুদ এবং দিলীপ কুমার রায়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হৃদ্যপূর্ণ সম্পর্ক। আজও মধ্যপ্রদেশের রায়পুর অঞ্চলের মন্দিরে মন্দিরে আশরাফ মাহমুদের  খেখা কবিতা ভজন সঙ্গীত হিসাবে ভক্তিভরে গাওয়া হয়। বিরহ পরবর্তী কবিতায় যমুনাতীরের মূরলীওয়ায়ার বাশিঁর সুর আর রইল না। তার পরিবর্তে পেলেম বিরহরসে আপ্লুত কিন্তু অনবাদ্য  আর এক সৃষ্টি। বিরহ পরবর্তী আশরাফ মাহমুদের কবিতার উদ্ধৃতি:

"রে-নির্দয়,পরওয়ানে,

জ্বলতি হুঁ মৈ কিস্ জ্বালা মে

ক্যাতু উসকো জানে...।

কুটজ কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতাটির নাম, "অন্তিম সন্দেশ"। তার থেকে চার লাইনের উদ্ধৃতি:

"মোরে জীবন কে প্রিয়বর,

মেরে কব্র শিলাতল পর

কিসী দিবস আ লিখ যানা

জগ্ মেঁ হৈ প্রেম অমর।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমিনুল হক সাহেবের অনুবাদ:

"মোর জীবনের প্রেয়সী গো

আমার কবর শীলা পর;

কোনো একদিন লিখে যেও খরায় শুধু  প্রেম অমর।"

কবি আশরাফ মাহমুদ ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর পদে যোগদান করেছিলেন। তারপর অবসরপ্রাপ্ত যখন হলেন, তখন চিরকুমার এই কবি তাঁরই বোন ডাক্তার জোহরা বেগম কাজীর সেগুন বাগিচার বাসায় কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। ১৯৮৩ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি ইহলীলা ত্যাগ করেন। কাজী আশরাফ মাহমুদের মৃত্যুর কপর বুঝতে পারলাম জানতে পারলাম. বাংলাদেশের বাইরে তিনি কতটা খ্যাতিমান ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর দিন দিল্লি থেকে প্রচারিত অল ইন্ডিয়া রেডিও সারাটা দিন, তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচার করল। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গান্ধীজীর পুত্র রামদাস গান্ধী তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন।

 

০১। জনাব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম,    সংসদ সদস্য         নির্বাচনী এলাকা-২২০, মাদারীপুর (তিনি মাদারীপুরের সন্তান)    মোবাইল নং : ০১৭৪৬০১১৪৫৫

০২। জনাব আলহাজ সৈয়দ আবুল হোসেন,সাবেক সংসদ সদস্য  নির্বাচনী এলাকা-২২০, মাদারীপুর-০৩

(তিনি ডাসার ইউনিয়নের সন্তান,উপজেলা: কালকিনি,জেলা: মাদারীপুর) মোবাইল নং : ০১৭২৯২৬৬৫৬৬

০৩। জনাব ডা: আব্দুস সোবহান গোলাপ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেস সহকারী

(তিনি রমজানপুর ইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর) মোবাইল নম্বর: ০১৭৩০৩৩৬৭৮১ 

০৪। ডাক্তার  জোহরা কাজী তিনি বাংলাদেশের প্রথম বাংঙ্গালী-মুসলিম মহিলা চিকিৎসক ও বিশ্বের প্রথম মহিলা চিকিৎসক এলিজাবেথ ব্লাকওয়েল  তিনি মাদারীপুর জেলাধীন কালকিনি উপজেলার  গোপালপুর ইউনিয়নের জন্ম গ্রহণ করেছেন।

০৫। জনাব সরদার আবুল কালাম, অতি:সচিব স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (তিনি বালীগ্রাম ইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর) ফোন নম্বর:: ০১৫৫২৩৬৯০১৬

০৬। জনাব পতিত পাবন বৈদ্য, যুগ্ম সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় (তিনি নবগ্রাম ইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর)

মোবাইল নং: ০১৭১৬৫০৬৫০৩

০৭। জনাব শেখ মুজিবুর রহামন, যুগ্ম সচিব, বিমান ও পর্যটক মন্ত্রণালয়,(তিনি কাজীবাকাই ইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর)

ফোন নম্বর: ০৭১১০০৫৪৬৬

০৮। জনাব এস এম শওকত আলী, যুগ্ম সচিব, বানিজ্য মন্ত্রণালয়, (তিনি এনায়েতনগর ইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর)

মোবাইল নং: ০১৭১৩০০৪৮২৮

০৯। জনাব কৃষ্ণকান্ত বিশ্বাস, উপ-সচিব,মেট্রেরেল প্রজেক্ট, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, (তিনি নবগ্রাম ইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর) মোবাইল নং: ০১৭৩০১৭৫৩৫৭

১০। জনাব উত্তম কুমার, যুগ্ম সচিব, শিক্ষা  মন্ত্রণালয়,(তিনি নবগ্রাম ইউনিয়নের, শশিকর গ্রাম এর সন্তান, উপজেলা কালকিনি, জেলা: মাদারীপুর), মোবাইল নং: ০১৭১৮০২৪৩২৯

১১। জনাব বাসুদেব গাঙুলী, যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়,(তিনি আলীনগর ইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর)

মোবাইল নং: ০১৭১১১৮৮৪৪১৪

১২।জনাব স্বপন কুমার সরদার, অতিরিক্ত সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় (তিনি নবগ্রাম ইইউনিয়নের সন্তান, উপজেলা: কালকিনি, জেলা:মাদারীপুর)

মোবাইল নম্বর: ০১৫৫২৪৫৩৬৪৬